ধূসর সন্ধ্যার পাখি

তোমার চোখে ছিল ধানসিঁড়ি নদীর কুয়াশা,
নভেম্বরের ঘাসে শিশিরের নীল স্বপ্ন;
আমি এসেছিলাম হাজার বছরের অন্ধকার পেরিয়ে
তোমার হৃদয়ের ভোরের দিকে—
যেখানে শালিখের ডানায় লেগে আছে রক্তিম আলো।

পৃথিবীর সব রঙ ম্লান হয়ে গেলে
তোমার চুলে বাতাসের গন্ধ থেকে যায়;
কার্তিকের মাঠে ধূসর ঘাসফড়িং
উড়ে যায় স্মৃতির শূন্যতায়—
আমি তবু খুঁজি তোমার পায়ের চিহ্ন
শ্রাবণের কাদায়, শিউলি ঝরা সকালে।

তোমাকে দেখেছি কোন এক পূর্বজন্মে
নাটোরের পথে, কিংবা বনলতা সেনের মতো
সুদূর সিংহলের সমুদ্রতীরে;
আজ এই অসংখ্য আলোর ভিড়ে
তুমি শুধু একটি নিঃশব্দ ছায়া—
আমার জীবনের শেষ কবিতার খসড়া।

রাত্রি নামে হিজলতলায়, পেঁচা ডাকে দূরে,
তোমার নিঃশ্বাসে মিশে আছে পাণ্ডলিপির গন্ধ;
আমরা দুজনে হারিয়ে যাবো কোনো এক সন্ধ্যায়
ধূসর সময়ের অতলে—
যেখানে শুধু থাকবে কুয়াশা আর তোমার অস্তিত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top