শূন্যের সম্মুখে

মৃত্যুর পর কী থাকে?
এই প্রশ্নটাই ভুল হয়তো—
'পর' বলতে সময় বোঝায়,
কিন্তু সময় তো চেতনার অভিজ্ঞতা;
চেতনা না থাকলে 'পর' বলে কিছু নেই।

তুমি কি মনে করতে পারো জন্মের আগের সময়?
মৃত্যু হয়তো সেরকমই—
একটি অ-অভিজ্ঞতা,
যাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই
কারণ ভয় পাওয়ার জন্য 'তুমি' লাগে।

কিন্তু আমরা তবু ভয় পাই—
অস্তিত্বহীনতার ভয়,
বিস্মৃত হওয়ার ভয়,
এই মহাবিশ্বে কোনো চিহ্ন না রেখে যাওয়ার ভয়।

হয়তো মৃত্যু একটি রূপান্তর মাত্র—
শক্তির সংরক্ষণ সূত্র বলে
কিছুই ধ্বংস হয় না, শুধু রূপ বদলায়;
তোমার পরমাণুগুলো ছড়িয়ে যাবে,
হয়ে উঠবে মাটি, গাছ, বাতাস—
তুমি থাকবে সবকিছুতে, কিন্তু 'তুমি' থাকবে না।

এটা কি সান্ত্বনা, নাকি ভয়াবহতা?
যে চেতনা এত বছর ধরে জমা হলো,
এত স্মৃতি, এত অনুভূতি—
সব মুছে যাবে একটি ঝলকে।

কিন্তু ভেবে দেখো—
প্রতি রাতে যখন তুমি ঘুমাও,
তুমি একটা ছোট মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যাও;
সকালে যে জেগে ওঠে,
সে কি সত্যিই গতকালের তুমি?

মৃত্যু হয়তো জীবনের অংশ—
শেষ নয়, একটি বিরাম চিহ্ন মাত্র,
এক অসম্পূর্ণ বাক্যের শেষে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top