অদৃশ্য জলের স্মৃতি

তোমার কণ্ঠে ছিল পোড়া কাঠকয়লার সুর,
বৃষ্টিহীন মেঘের যে নীরব যাত্রা
আমার পাঁজরে জমে থাকা ধুলোর স্তর—
সেখানে তুমি এক অমাবস্যার জানালা।

আমি তোমাকে চিনেছি বাতাসের ভাঁজে ভাঁজে,
যেখানে শব্দেরা হারিয়ে যায় জন্মাবার আগে;
তোমার আঙুলে লেগে থাকা অচেনা শ্যাওলা
আমার রক্তে মিশে যায় লবণের মতো ধীরে।

কোনো এক মধ্যরাতে আমরা হয়ে গিয়েছিলাম
দুটি পাথর—নদীর তলদেশে নিমজ্জিত,
জল যাদের স্পর্শ করে কিন্তু ভাসায় না;
তোমার নিঃশ্বাসে ছিল জং ধরা লোহার গন্ধ,
আর আমি ছিলাম এক অসমাপ্ত প্রশ্ন।

তুমি বলেছিলে—”আমরা কখনো মিলিনি,
শুধু দুটি সমান্তরাল রেখার মতো
একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছি অনন্তকাল।”

তবু আমার হাতের রেখায় লেগে আছে
তোমার অস্তিত্বের ছাই,
যে ছাই থেকে জন্ম নেয় না কোনো ফুল—
শুধু একটি শূন্যতা, যা তোমার আকৃতি ধরে রাখে
অদৃশ্য জলের মতো, গভীর এবং স্থির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top